ব্রাহ্ম সমাজের সেকাল একাল

সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজ

প্রিয়াঙ্কা সিংহ: ছোটো থেকে বিধান সরণীর সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ দেখে বড়ো হয়েছি। ইতিহাসের বইতে পড়তাম রামমোহন রায় ও ব্রাহ্মসমাজ সম্পর্কে। মাঘোৎসব আর ভাদ্র উৎসবে যেতাম। খুব ইচ্ছা করতো জানতে এই বাড়ি নিয়ে, ব্রাহ্ম সমাজ নিয়ে। শুরু করা যাক সেই ইতিহাস বইয়ের পাতা থেকে।

রামমোহন রায় ও দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময় আদি ব্রাহ্মসমাজ ছিল। বর্তমানে ২৩৬ রবীন্দ্র সরণী। আজ সেই বাড়ির অবস্থা খুব খারাপ। কেশব চন্দ্র সেনের ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্ম মন্দির আজও দেখতে পাই কেশবচন্দ্র স্ট্রীটে। কেশব চন্দ্র সেন তাঁর মেয়ের বাল্য বিবাহ দেওয়াতেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

আদি ব্রাহ্ম সমাজের বর্তমান অবস্থা

১৫ই মে ১৮৭৮ সালে টাউন হলে এক সভায় পৃথকভাবে আর একটি ব্রাহ্ম সমাজ স্থাপিত হয়, যার নাম দেওয়া হয় সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজ। এই সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার পর উপাসনার জন্য মন্দির তৈরির চেষ্টা শুরু হয়। জমি কেনার জন্য মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সাত হাজার টাকা দেন এবং অনেকে নিজের এক মাসের আয় দান করেন। ওই টাকা দিয়ে ১৮৭৯ সনের মাঘ উৎসবের দিন মন্দিরের ভিত্তি স্থাপনা করেন শিবচন্দ্র দেব। রুরকি এঞ্জিনিয়ারিং কলেজের থেকে পাস করা বড়ো এঞ্জিনিয়ার বাবু নীলমণি মিত্র বিনা পয়সায় মন্দিরের প্ল্যান- নকশা ইত্যাদি করে দেন। ভিত্তি স্থাপনের সময় আনন্দমোহন বসুর শ্বশুর ভগবান চন্দ্র বসু এটি তৈরির ভার নেন। ভগবান চন্দ্র বসু ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন। মন্দির সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ওনার বদলি হয়ে যায়। তখন কমিটি গুরুচরণ মহলানবিশ ও শিবনাথ শাস্ত্রীর ওপর সেই ভার দেন। শাস্ত্রী মশাই যখন ভবানীপুর সাউথ সুবার্বান স্কুলের হেডমাস্টার ছিলেন, তখন ২৪ পরগণার ডিস্ট্রিক্টের এঞ্জিনিয়ার রাধিকাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ভালো বন্ধুত্ব ছিল। রাধিকাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের কাকা।

ব্রাহ্ম সমাধিস্থল

সঠিক সময়েই সম্পূর্ণ হয়েছিল মন্দির তৈরির কাজ। মোট পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা খরচ পড়েছিলো মন্দির তৈরিতে। কিন্তু মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগে এই জায়গায় কী ছিল? স্বামী বিবেকানন্দের ভাই মহেন্দ্রনাথ বলছেন ১৮৬০-৭০ সনে ওখানে ঠনঠনের ঘোষদের পুকুর ছিল। ঘোষদের বাড়ির নেমন্তন্ন খেয়ে তাঁরা এখানে অনেকবার মুখ ধুয়েছেন। পুকুর ভরাট হয়ে মাঠ হলে ন্যাশনাল নবগোপাল মিত্র জিমন্যাস্টিক আখড়া খোলেন। নরেন্দ্রনাথ দত্ত (পরে স্বামী বিবেকানন্দ) এই আখড়ায় বার এর খেলা শেখাতেন।

কেশব চন্দ্র সেনের সমাধি

ব্রাহ্মসমাজের মানুষের দুরকম ভাবে সৎকার করা হত মৃত্যুর পর। কিছু মানুষকে দাহ করা হত, কিছু মানুষের আবার সমাধি দেখতে পাই। বর্তমান ভিক্টোরিয়া কলেজের ভেতর আছে ব্রাহ্ম সমাধি স্থল। কেশব চন্দ্র সেনের সমাধি ওখানেই আছে। উল্লেখযোগ্য যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্ম হলেও তাঁকে দাহ করা হয়েছিল নিমতলা শ্মশানে।

2 thoughts on “ব্রাহ্ম সমাজের সেকাল একাল

  1. আমি এই বিষয়ে আরো জানতে চাই,,,,,,শুধু জানতে চাই বললে ভুল হবে,আমি ব্রাহ্ম ধর্ম গ্রহণ করতে চাই,,,,কিভাবে সম্ভব যদি জানান বলি উপকৃত হই

    Liked by 1 person

    1. আপনি কন্টেন্টের লেখিকার সঙ্গে ইমেলে যোগাযোগ করে কথা বলে নিতে পারেন এ ব্যাপারে।

      Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s