ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-৩৯)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাাদক

শ্রীঅরবিন্দের পূর্ণযোগ(পর্ব- খ)

মুকুল কুমার সাহা: আমরা আমাদের সীমিত বুদ্ধি দিয়ে শ্রীঅরবিন্দের পূর্ণযোগ বোঝবার চেষ্টা করছি, সেই সঙ্গেই ভগবতী জননী শ্রীমার কাছে প্রার্থনা জানাচ্ছি এই ব্যাপারে তিনি যেন আমাদের সাহায্য করেন।

শ্রীঅরবিন্দের যোগ বুঝতে গেলে তিনি প্রকৃতিকে এবং যোগকে কোন দৃষ্টিতে দেখেছেন সেটা আমাদের প্রথমেই বুঝে নিতে হবে। আগেকার দিনের তন্ত্র ছাড়া বেশিরভাগ যোগমার্গই প্রকৃতিকে কুহকিনী মায়া ভেবে তাঁকে এড়িয়ে গিয়ে পুরুষ বা আত্মার চেতনার সঙ্গে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করেছে। শ্রীঅরবিন্দ প্রকৃতিকে ভগবানেরই বিশেষ শক্তি বলে স্বীকার করেছেন। শ্রীঅরবিন্দ তাঁর যোগসমন্বয় বইতে এক জায়গায় লিখেছেন,”প্রকৃতিকে আমরা কুহকিনী মায়ার ছলনাপূর্ণ অলীক ক্রিয়া বলে স্বীকার না করে স্বীকার করব যে, সে ভগবানেরই বিশ্বসত্তার বিশ্বশক্তি ও কর্মপ্রণালী, যার বিধান ও অন্তঃপ্রেরণার উৎস হল এক বিরাট অনন্ত অথচ সূক্ষ্ম নির্ধারণী প্রজ্ঞা, গীতোক্ত ‘প্রজ্ঞা প্রসৃতা পুরাণী’– আদি থেকে সনাতন হতে উৎসারিত প্রজ্ঞা।”

আবার তিনি আরেক জায়গায় বলছেন,”প্রকৃতির গতি দ্বিবিধ– পরা ও অপরা, অথবা আমরা এদের নাম দিতে পারি দিব্য ও অদিব্য। কিন্তু এই পার্থক্য শুধু ব্যবহারিক অর্থেই প্রযোজ্য, কারণ এমন কিছু নেই যা দিব্য নয়, আর ব্যাপকতর দৃষ্টিতে এই পার্থক্য অর্থহীন যেমন প্রাকৃতিক ও অতিপ্রাকৃতিক এই দুই পদের পার্থক্যও অর্থহীন, কারণ যা কিছু সবই প্রাকৃতিক। সকল বিষয়ই প্রকৃতির মধ্যে, আবার ভগবানের মধ্যেও। কিন্তু ব্যবহারিক অর্থে এক প্রকৃত পার্থক্য আছে। অপরা প্রকৃতি যাকে আমরা জানি, বর্তমানে আমরা যা, এবং যা আমরা থাকব যতদিন না আমাদের মধ্যস্থ শ্রদ্ধার পরিবর্তন হয়– সেই অপরা প্রকৃতির কাজ সীমা ও বিভাজনের মাধ্যমে, অবিদ্যা তার স্বরূপ এবং অহমাত্মক জীবন তার পরিণতি। কিন্তু যে পরা প্রকৃতির পানে আমাদের অভীপ্সা তার কাজ একত্ব সাধন ও সীমার উত্তরণ, বিদ্যা তার স্বরূপ এবং পরিণতি দিব্য জীবন। যোগের লক্ষ্য, অপরা প্রকৃতি থেকে পরা প্রকৃতিতে উত্তরণ, আর এই উত্তরণের উপায়– হয় অপরা প্রকৃতির বর্জন ও পরা প্রকৃতিতে পলায়ন যা সাধারণ মত; অথবা অপরা প্রকৃতির রূপান্তর ও পরা প্রকৃতিতে উন্নয়ন। এই শেষ উপায়টিই পূর্ণযোগের লক্ষ্য হতে হবে।”

আমরা আমাদের ১২, ১৩ এবং ১৪ পর্বে পরা ও অপরা প্রকৃতি নিয়ে বিশদে আলোচনা করেছি। এখন শ্রীঅরবিন্দের পূর্ণযোগ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রকৃতির কথা টেনে আনতে হল এই কারণে শ্রীঅরবিন্দের পূর্ণযোগে মানুষের অপরা প্রকৃতিকে রূপান্তরিত করতে হবে পরা প্রকৃতিতে। আমরা সাধারণত প্রকৃতি বলতে বুঝি ভূমি-গাছপালা-পাহাড়-পর্বত-জলবায়ু প্রভৃতিকে। আধ্যাত্মিকতায় প্রকৃতি বলতে বিশ্বব্যাপী একটা সচেতন কর্মক্ষম ইচ্ছাশক্তিকে বোঝায়। আবার বিশ্ব বলতে শুধু পৃথিবীকে নয়, ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত সৃষ্টিকেই বোঝায়। শ্রীমা বলেছেন– প্রকৃতি সচেতনভাবে স্বেচ্ছায় সবকিছু করে। আর তার আয়ত্বের মধ্যে প্রচন্ড সব শক্তি আছে।

নিম্নের প্রকৃতি থেকে আমরা আমাদের মন, প্রাণ ও শরীরকে পেয়েছি। ঊর্ধ্বের প্রকৃতি– ভগবতী প্রকৃতি আমাদের নিম্নপ্রকৃতিতে নেমে এসে তাকে রূপান্তরিত করবে শ্রীঅরবিন্দের যোগের লক্ষ্যই এই। যোগ বলতে শ্রীঅরবিন্দ কী বলেছেন পরের পর্বে আমরা আলোচনা করব।

(চল্লিশতম পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

৩৮ তম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন– https://agamikalarab.wordpress.com/2020/10/04/some-words-about-our-consciousness/

One thought on “ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-৩৯)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s