ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-৪০)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাাদক

শ্রীঅরবিন্দের পূর্ণযোগ(পর্ব- গ)

মুকুল কুমার সাহা: আগের পর্ব হতে আমরা জানলাম, শ্রীঅরবিন্দ প্রকৃতিকে ভগবানেরই বিশ্বসত্তার বিশ্বশক্তি ও কর্মপ্রণালী বলেছেন। তিনি এও বলেছেন, প্রকৃতির গতি দিব্য ও অদিব্য– এই দুই ধারায় বিভক্ত। সেই সঙ্গে আবার বলেছেন, ব্যাপকতর দৃষ্টিতে দিব্য ও অদিব্য বলে কিছু হয় না, কারণ সবকিছুই ভগবানের থেকে এসেছে, সুতরাং সবই দিব্য।

বর্তমানে আমরা প্রকৃতির অদিব্য ধারাতে জীবনযাপন করছি। যখন অদিব্য প্রকৃতিকে ছাড়িয়ে দিব্য প্রকৃতিতে উত্তরণ করতে চাইব, সেই সময় অদিব্য প্রকৃতির সমস্ত কিছুই বর্জন করার চেষ্টা করতে হবে। কোনোভাবেই দুই প্রকৃতির সংমিশ্রণ চলবে না। শ্রীঅরবিন্দ এই কথাগুলি অবশ্য পরে বলবেন। আমরা ব্যাপারটা প্রথমেই জেনে নিচ্ছি তার কারণ না হলে আমাদের মন বলবে শ্রীঅরবিন্দ যখন বলেছেন সবই দিব্য, সবই ভগবানের কাছ থেকে এসেছে, তাহলে আমরা অদিব্য প্রকৃতির কিছুটা নিয়ে আমরা থাকব, আবার দিব্য প্রকৃতিকেও আমাদের মধ্যে আহ্বান করব।

যাই হোক, শ্রীঅরবিন্দ প্রকৃতির কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে যা বলেছেন সেটা এখন বুঝতে চেষ্টা করব। তিনি বলেছেন,”মানুষের যেসব কাজ সাধারণক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ বা যে সবের লক্ষ্য অনন্যসাধারণ লোক ও সার্থকতা অর্থাৎ আমাদের ধারণায় ঊর্ধে ও ভগবানের দিকে– এই সকলপ্রকার কাজেরই বড় বড় রূপের প্রবণতা হল অন্য অনেকের সঙ্গে মিশে একটি সমষ্টি গড়ে তোলা। আবার এই সমষ্টিও ভেঙে গিয়ে তার থেকে বের হয়ে আসে বিশেষ বিশেষ শক্তি ও প্রবণতার বিভিন্ন ধারা, কিন্তু এরাও আবার মিলিত হয় এক বৃহত্তর ও বলবত্তর সমন্বয়ে। দ্বিতীয়ত, যদিও কার্যকরী অভিব্যক্তির এক অত্যাবশ্যকীয় নিয়ম হল রূপ গঠন, তবু সত্য ও সাধনাকে বিধি ব্যবস্থার কঠোর কাঠামোর মধ্যে বেঁধে রাখলে তারা জীর্ণ হয়ে পড়ে এবং তাদের সব না হোক, অধিকাংশ গুণই নষ্ট হয়। এদের নবজীবনের জন্য দরকার তাদের নবপ্রাণধারায় সঞ্জীবিত করা যাতে মৃত বা মুমূর্ষু বাহনগুলি প্রাণবন্ত হয়ে রূপান্তরিত হতে পারে।…”

তিনি আবার বলেছেন,”ভারতীয় যোগের সার এই যে এ হল প্রকৃতির কতকগুলি বড়শক্তির বিশেষ ক্রিয়া বা বিধিব্যবস্থা। তাদের মধ্যে কত ভাগ, কত ধারা, কত পদ্ধতি; আর মানবজাতির ভবিষ্য জীবনের অন্যতম সক্রিয় উপাদান হওয়ার যোগ্যতা এতে বর্তমান। এতদিন এ আশ্রয় নিয়েছিল মরমিয়া সম্প্রদায় ও তপস্বীর আশ্রমে, এখন সে আবার বেরিয়ে আসছে সেখান থেকে যাতে এ হতে পারে মানবের ভবিষ্য জীবন্ত শক্তি ও প্রয়োজনের অন্যতম। কিন্তু এর প্রথম দরকার নিজের পুনরাবিষ্কার, প্রকৃতির যে সর্বজনীন সত্য ও বিরামহীন লক্ষ্যের প্রতিরূপ এ, তার মধ্যে নিজঅস্তিত্বের গভীরতম অর্থ উদঘাটন এবং এই নতুন আত্মজ্ঞান ও আত্মমূল্যায়নের বলে নিজের পুনর্লব্ধ বৃহত্তর সমন্বয়সন্ধান। নূতন ভাবে গঠিত হলে জাতির নবগঠিত জীবনের মধ্যে এ প্রবেশ করতে পারে আরো অনায়াসে ও জোরালো হয়ে, কারণ এর প্রণালী জীবনকে নিয়ে যেতে পারে নিজের সত্তার ও ব্যক্তিভাবনার অন্তরের গহনতম পূরে এবং ঊর্ধ্বে সর্বোচ্চ শিখরে।”

(একচল্লিশতম পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

৩৯ তম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন– /http://agamikalarab.wordpress.com/2020/10/31/purna-yoga-of-shree-aurobindapart-2/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s